Fri. Feb 23rd, 2024

 

Driving Lisence appliaction

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস “গোপালগঞ্জ মডেল” উদ্ভাবন

গোপালগঞ্জে ১৫ হাজার ব্যক্তি পেতে যাচ্ছেন মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স ॥

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস ‘গোপালগঞ্জ মডেল’ কার্যক্রমের সমাপনীতে গোপালগঞ্জে অন্ত:ত ১৫ হাজার ব্যক্তি পেতে যাচ্ছেন মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স। শনিবার সকাল ১১ টায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনপত্র প্রদান ও গ্রহণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা এ তথ্য জানান।

প্রধান অতিথি জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচণী ম্যান্ডেটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমার গ্রাম আমার শহর বাস্তবায়ন। এরই ধারাবাহিকতায় মোটরযান ড্রাইভিং এর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিগণের সড়ক পরিবহণ আইন, সড়ক ব্যবহার বিধি, রোড সাইন/ট্রাফিক সাইন, বিভিন্ন ধরণের চিহ্ন, সংকেত ইত্যাদি সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা থাকা অত্যাবশ্যক। কিন্তু গাড়ি চালনোয় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ হলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা ও বিড়ম্বনার কারণে অনেকেই ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্জন করতে পারেননি। তাছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণের বিভিন্ন ধাপগুলি অনেকক্ষেত্রে হয়রানীমূলক ও পীড়াদায়ক মনে হওয়ায় অনেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। এসব সমস্যাসমূহ দূরীকরণার্থে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পবিত্র জন্মভূমি গোপালগঞ্জে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস “গোপালগঞ্জ মডেল” উদ্ভাবন করা হয়েছে।

শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনপত্র প্রদান ও গ্রহণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা একজন আবেদনকারীর হাতে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স দিচ্ছেন।

প্রধান অতিথি আরও জানান, গোপালগঞ্জ মডেল’ এর মাধ্যমে সরকার ও জনগণ নানা সুবিধা পাচ্ছেন। সহজে প্রাপ্তির কারণে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি হচ্ছে, হয়রাণী বন্ধ হচ্ছে, দূর্ণীতি ও দালাল চক্র বন্ধ হচ্ছে, সময় ও খরচ হ্রাস হচ্ছে এবং সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে জনসাধারণ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের অনুরোধে বিভিন্ন উপজেলায় গোপালগঞ্জ মডেল অনুযায়ী সেবা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। শুধুমাত্র উদ্বোধনী দিনেই কাশিয়ানীতে আবেদনপত্র জমা পড়েছে ১৮’শ, মুকসুদপুরে ২৫’শ, টুঙ্গিপাড়ায় ১৫’শ, কোটালীপাড়ায় ২৫’শ ও গোপালগঞ্জ সদরে ২ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে ১৫ হাজারেরও বেশি আবেদনপত্র সঠিকভাবে পূরণপূর্বক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় প্রাকটিক্যাল, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ চলছে। পরীক্ষাগুলোতে উত্তীর্ণ হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্নপূর্বক ‘স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স’ প্রদান করা হবে।

গোপালগঞ্জ সদর ইউএনও মোঃ সাদিকুর রহমান খান জানান, ‘গোপালগঞ্জ মডেল’ এর মাধ্যমে যে সকল প্রক্রিয়ায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ সেবা দেয়া হচ্ছে তা হল, গ্রাহকের নিজ উপজেলাতে গিয়ে আবেদন ফরম বিতরণ ও পূরণ করতে হেল্প ডেস্ক স্থাপন, ব্লাড গ্রুপ শনাক্তকরণ ও ফিটনেস সনদ প্রদানের জন্য মেডিক্যাল বুথ, লার্নার কার্ড ফি এর জন্য ব্যাংক বুথ, কাগজপত্র সত্যায়ন বুথ, সম্পূর্ণ আবেদন ফরম গ্রহণ বুথ এবং কৃর্তৃপক্ষ কর্তৃক সিস্টেম এন্ট্রি দিয়ে আবেদনকারীর নিকট লার্নার কার্ড প্রদান। এছাড়াও ট্রাফিক আইন সম্পের্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে কাশিয়ানীর পার্শ্ববর্তী উপজেলা বোয়ালমারীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘গোপালগঞ্জ মডেল’ অনুকরণে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে সেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

মিজানুর রহমান মানিক,

২১.১২.১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published.