Sun. Apr 21st, 2024
ভিসি’র লেলিয়ে দেয়া বাহিনীর লাঠির আঘাতে একজন আন্দোলনকারীর পিঠের কালশিটে দাগ “তার দুপুরের খাবার এই,যে খেয়েছি।”

মিজানুর রহমান মানিক, গোপালগঞ্জের বশেমুরবিপ্রবি এখন উত্তাল, ভিসি হটাও আন্দোলনকারীদের গগনবিদারী স্নোগানে এলাকার আকাশ বাতাস কাঁপছে, দিনে গড়ানো আন্দোলনের আবেগ সময়ের ব্যবধানে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, আন্দোলনকারীদের সংখ্যা বাড়ছেই, জোয়ারে সাগর যেমন ফুলেফেঁপে ওঠে! গোপালগঞ্জের মুক্তমনা মানুষ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাতœতা ঘোষনা করেছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে গোপালগঞ্জের জেলা আওয়ামী  লীগ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, জেলা যুবলীগ, জেলা ছাত্রলীগ সহ টুঙ্গিপাড়া আওয়ামী লীগ একাত্মতা ঘোষনা করেছে।

শনিবার, দুপুর প্রায় আড়াইটা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জামার বোতাম অর্ধেক খোলা ভিসি বিরূদ্ধে আন্দোলনে থাকা এক ছাত্রকে মুরব্বী গোছের একজন জিজ্ঞাসা করছেন, তুমি দুপুরে কিছু খেয়েছো? ছাত্রটি তার জামা খুলে ভিসি লেলিয়ে দেয়া বাহিনীর লাঠির আঘাতে পিঠের কয়েকটি ক্ষতস্থানের কালশিটে দাগ গুলো দেখিয়ে অবলীলায় বললো, “এইযে, খেয়েছি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিধন্য গোপালগঞ্জ আজ একটি সিন্ধান্তের উপর দাঁড়িয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর . খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে চলছে আন্দোলন, আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, আর সেই আগুনে ঘি ঢাললো ভিসি লেলিয়ে দেয়া বাহিনী। অহিংস শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের উপরে নির্বিচারে ঝাঁপিয়ে পড়লো, পিঠে, পায়ে আঘাতের পর আঘাত করলো, মাথা ফাঁটালো, রক্তের দাগ লেগে গেলো গোপালগঞ্জের জনপদে।

গোপালগঞ্জের বশেমুরবিপ্রবি এখন উত্তাল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদত্যাগের দাবি তাই ক্রমশ: দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে, সাংবাদিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে, গণদাবিতে রূপ নিচ্ছে। আন্দোলনকারীদের আবেগ পরিণত হচ্ছে আগুনে।

ভিসি বাহিনীর লাঠির আঘাতে ক্ষত পিঠের দাগগুলোকে যে ছাত্র তার দুপুরের খাবার মনে করে, সে আন্দোলনের আবেগের পরিমাপ অপরিমেয়, বাঁচা মরার কথা মনে নেই, লাশের বিনিময়ে হলেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করবেই, ভিসিকে পদত্যাগ করিয়েই ছাড়বেপ্রায় অর্ধশত আন্দোলনকারীর সাথে কথা বলে তাদের এমন আবেগের কথাই জানা গেল।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনের ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরে বলছেন, দুর্নীতিবাজ, ভর্তি নিয়োগ বাণিজ্যকারী ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থী শিক্ষক টর্চার সেলে পরিনত করেছে। এই সকল দুর্নীতির সাথে রয়েছে প্রক্টর সহ প্রশাসনের বিভাগের অসাধু কর্মকর্তারা। বিএনপিজামায়াত পন্থি এই ভিসির পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন মূল ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, শুক্রবার রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হলে খাবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে হলে বিদ্যুৎ পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা শহর থেকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় নীলার মাঠ এলাকায় ভিসি পেটোয়া বাহিনী হামলা চালায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় আশপাশে ক্যাম্পাসে বাইরে বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালায় পেটোয়া বাহিনী। সময় অনেক শিক্ষার্থীকেই পানির মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং বিল পাড়ি দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে দেখা গেছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য দেশী অস্ত্রশস্ত্রের নিয়ে মহড়া দেয় ওই বাহিনী। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এদের মধ্যে ১৫ জনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় ইলেক্ট্রিক্যাল এ্যন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডীন প্রফেসর . আব্দুর রহিমকে প্রধান, আইন বিভাগের ডীন . কুদ্দুছ মিয়াকে সদস্য সচিব . শামসুল আরেফিনকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে আগামী দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ক্যাম্পাস উত্তাল থাকায় ক্যাম্পাস সহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জ বশেমুরবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর . খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও বহুবার নানা অনিয়ম দূর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন মিডিয়াতেও তা প্রকাশ হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর জিনিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার তার সঙ্গে ভিসি কটাক্ষ আচরণের অডিওক্লিপ ফাঁস হওয়ার পর গত বুধবার থেকে ভিসি বিরুদ্ধে নতুন করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়।

আন্দোলনের আবেগ শিক্ষার্থীদের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই, সকল শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে, তাদের একই কথা, ছেলেমেয়েরা আন্দোলন করছে শান্তিপূর্ণ উপায়ে, তাদের গায়ে হাত দেয়ার বিষয়টা কেমন হলো? অর্থাৎ আন্দোলনকারীদের গায়ে দেয়ার বিষয়টি কোনো মুক্তমনা বিবেচনাপ্রসূত মানুষ মানতে পারছেন না। সকলেই চান, একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান, সদিচ্ছা প্রদর্শণ পূর্বক আলোচনার মাধ্যমে।

গোপালগঞ্জ ভয়েস

২২.০৯.১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published.