Fri. Feb 23rd, 2024

উন্নয়নের সুফল পেতে সরকারের চেয়ে দেশের নাগরিকদের বেশী দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হয়। রাষ্ট্রযন্ত্র কর্তৃক প্রদেয় নানাবিধ জনকল্যাণমুখী কর্মযজ্ঞের সুবিধা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। নাগরিক অধিকার আদায়ের জন্য সকলক্ষেত্রে আন্দোলন সংগ্রামের প্রয়োজন পড়েনা। প্রয়োজন একটু আন্তরিকতা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা। দেশের সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহারবিধি মেনে চলাও প্রতিটি নাগরিকের যেমন কর্তব্য, তেমনি জনকল্যাণমুখী টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রযন্ত্রের দায়িত্ব। উল্লেখিত শর্তগুলোর ব্যত্যয় ঘটলে রাষ্ট্র যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়,জনগণও তেমন প্রাপ্ত সেবা ও সুফল থেকে বঞ্চিত হয়।

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ লক্ষনীয়। এতএত বরাদ্দ থাকার পরেও দৃশ্যমাণ সুফল বরাদ্দের অংকের সাথে সর্বদাই সমালোচিত হয়ে আসছে। তাহলে ফারাকটা কোথায়? টেকসই উন্নয়নের ঘাটতি, নাকি সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার অভাব,নাকি জনগণের যাচ্ছেতাই ব্যবহারের নোংরা সংস্কৃতির কুফুল! এই বিষয়গুলো যৌক্তিকভাবে জনগণ ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে প্রতিনিয়ত ভাবিয়ে তুলছে। বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রযন্ত্র সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রতিকার ও রহস্য উদঘাটনের উদ্যোগ নিলেও অদৃশ্য কারনে থেমে যাওয়ার সংস্কৃতি টেকসই উন্নয়নকে একদিকে যেমন নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে থাকা কলকাঠির ধারকেরা এহেন কর্মকান্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার পর্যায়ে প্রতিটি দপ্তরের উন্নয়ন বরাদ্দের কাজ পেতে রয়েছে কথিত সিন্ডিকেট। ওটিএম পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত সকল ঠিকাদারের উম্মুক্ত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ দপ্তরের ক্ষমতাসীন কিছু অসাধু কর্মকর্তা পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডারের শর্তে অমূলক কিছু শর্তাবলী যোগকরে দিচ্ছে, যা ক্ষমতাসীন কর্মকর্তার পছন্দের ঠিকাদার ব্যতিত অন্যকেউ পূরণ করার সক্ষমতা রাখেনা। একারণেই মানসম্পন্ন কাজ ও শর্তাবলীর ব্যত্যয় ঘটায় টেকসই উন্নয়নের সুফল থেকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। লটারি প্রথায় উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার নির্ধারণ করতেও রয়েছে অনেক কৌশলী হাত, যা ইলিজিটিমেট আন্ডার হ্যান্ড ট্রানজেকশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করে। পাশাপাশি অনেক উর্ধতন কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অসদুপায় অবলম্বন করে টেন্ডারের ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত কাজ বিনাটেন্ডারে পছন্দের ঠিকাদারকে গোপনে পাইয়ে দিচ্ছে, যা টেকসই ও দৃশ্যমাণ উন্নয়নের অন্তরায়। এইক্ষেত্রে অসাধু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সুষ্ঠ জবাবদিহিতার আওতায় আনার রীতি থাকলেও বিভিন্ন কারনে থমকে যায়, বা থমকে দেয় নির্বাহী হাতগুলো।পাশাপাশি ঠিকাদারের কর্মের বাজেটের বিপরীতে রয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের অলিখিত ও পেশীশক্তির অযৌক্তিক আর্থিক বরাদ্দ, যা কাজের মানকে আরও মানহীন করে তুলে। এদের বিরুদ্ধেও জনগণের সোচ্চার হওয়া সময়ের দাবী। রাষ্ট্রের প্রতিটি ধূলিকণার অংশীদারিত্ব যেহেতু জনগণের রয়েছে, সেহেতু রাষ্ট্রের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান জনগণই কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেওয়ার জন্য সাংবিধানিকভাবে নাগরিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। প্রজাতন্ত্রের অসাধু কর্মকর্তা আর ঠিকাদারের প্যানিক চাদাবাজ টেকসই উন্নয়নের জন্য অন্তরায় বিধায় এদের বিরুদ্ধে জনগণ ও রাষ্ট্রের সোচ্চার হওয়া একান্ত জরুরী বলে প্রতীয়মান।

জনগণের জন্য সংঘটিত উন্নয়ন ঠিকাদার থেকে শর্তানুযায়ী বুঝেনিতে হলে সার্বক্ষণিক সরকারের দিকে চেয়ে থাকার দেশ বাংলাদেশের নয়। কারণ নীতিনৈতিকতা বিবর্জিত আমাদের চরিত্র রাষ্ট্রের উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়, বিধায় সরকারি বরাদ্দের শতভাগ জনগণকেই বুঝে নেওয়ার সময় দরজায় কড়া নাড়ছে। জনগনের জন্য বরাদ্দ রাষ্ট্র সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সততা ও আন্তরিকতা বৃদ্ধিকরে সরকারের উন্নয়নকে তরান্বিত করার লক্ষ্যে জনগণের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

অপরিকল্পিত নগরায়ন, শহরের যানযট ও জনদূর্ভোগ কমিয়ে আনতে থানা ও জেলা শহরের বিভিন্ন দপ্তরের সকল শ্রেনীর কর্মকর্তা, কর্মচারীর পাশাপাশি জেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার দৃশ্যমাণ প্রতিফলন দরকার। আত্নীয়করন, দলবাজি ও দখলবাজির সংস্কৃতিকে যারা মনে লালন করে জনগণকে ঠকাচ্ছেন, সরকারের টেকসই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছেন, তারা জন্মগতভাবে দেশের নাগরিকত্বের দাবিদার হলেও আপনারা দেশ ও জনগণের শত্রু হিসেবে পরিগনিত হয়েছেন।

সরকারের উন্নয়ন লক্ষমাত্রা নিশ্চিতকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বদ্ধপরিকর। এরই অংশ হিসেবে চলমান দূর্নীতিবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে হয়তো আইনের আওতায় আসবে বিভিন্ন দপ্তরের দূর্নীতিবাজ প্রভাবশালী কর্মকর্তা কর্মচারী, ঠিকাদার, দলীয় সুবিধা নেওয়া মুখোশাবৃত পদপদবিধারী নেতা, চাদাবাজ ও নানাশ্রেনীর জনপ্রতিনিধিরা। প্রভাব বিস্তারের পালাবদলে নিজেকে পাল্টে নিন। দেশমাতৃকার জন্য স্বীয় স্বার্থের ম্যালপ্রাকটিস পরিহার করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করার প্রত্যয় নিয়ে স্ব স্ব অবস্থান থেকে রাষ্ট্রের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হোন,সোচ্চার হোন। জীবন বদলে যাবে, বাংলাদেশ বদলে যাবে।

মোস্তাফিজুর রহমান।
গোপালগঞ্জ।
তারিখঃ ২৪/০৫/২০১৯ ইং।

Leave a Reply

Your email address will not be published.